পবিত্র হজ্ব থেকে তাওহীদের শিক্ষা।

পবিত্র হজ্ব তাওহীদ (আল্লাহ্‌র একত্ববাদের)শিক্ষা
শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী ইউসুফ
রিয়াদ, সৌদি আরব

হজ্ব ইসলামের রুকনসমূহরে মধ্যে একটি রুকন, এই হজ্ব তাওহীদ তথা আল্লাহ্‌ র একত্ববাদে ভরপুর একটি ইবাদত।একজন হাজী যখন হজ্বরে নিয়ত করছে তখন সে বলছে,”হে আল্লাহ্‌ তোমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি উপস্থিত হলাম কোন লৌককিতা বা নামের জন্য নয়। (এই অর্থে হাদীসটি ইবনু মাযায় বর্ণিত হয়েছে)
তওয়াফের শুরুতে বিসমিল্লাহ্‌, আল্লাহু আকবার বলে আল্লাহ্‌ র একত্ববাদরে স্বীকৃতি দিয়ে তওয়াফ শুরু করা হচ্ছে।
হজ্বরে তালবিয়া পুরোটাই তাওহীদরে বাণী: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,লাব্বায়িকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক,ইন্নাল হামদা ওয়ান নে’মাতা লাকা ওয়াল মূলক,লা- শারীকা লাক। অর্থ:”আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হয়েছি! হে আল্লাহ্‌ আমি তোমার নিকট উপস্থিত হয়েছি তোমার কোনই অংশীদার নেই,তোমার নিকট উপস্থিত হয়েছি,সর্বপ্রকার প্রশংসা তোমার এবং নে’মতের সামগ্রী সবইতো তোমার। তোমারই জন্য বদশাহী,তোমার কোন অংশীদার নেই।
(বুখারী-৩/৪০৮,মুসলিম-২/৮৪১))

সায়ীর শুরুতে তাওহীদের বাণী:
সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে বলতে হয়: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু,লাহুল মুলকু ওয়ালা-হুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়নি কাদীর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়াদাহু,ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াদাহু। অর্থঃ‍আল্লাহ্ ব্যতীত ইবাদতরে যোগ্য কোন মা’বুদ নেই,তিনি একক,তাঁর কোন শরীক নেই,রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতা বান,আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই,তিনি একক,তিনি তাঁর ওয়াদা র্পূণ করছেনে এবং তিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করছেনে আর তিনি একাই শত্রুবাহিনীকে পরাভূত করছেনে। (মুসলিম-২/৮৮৮)
আরাফার দোয়াসমূহরে মধ্যে সর্বোত্তম দোয়াও তাওহীদের অমিয় বাণী: রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেনে: সর্বোত্তম দুয়া হল আরাফার দিনের দুয়া, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী

নবীগণ যে সর্বোত্তম কথা বলছেনে তাহলো:
লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালা-হুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়নি কাদীর।
অর্থঃআল্লাহ্ ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কোন মা’বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনিই সবকিছুর উপর ক্ষমতাশীল। (তিরমিযী-৩/১৮৪)
জামারাগুলোতে কঙ্কর নিক্ষেপেরে সময় আল্লাহ্‌ র একত্ববাদের ঘোষণা দিয়ে বলতে হয়”আল্লাহু আকবার”।
হজ্ব আদায়ের সময় মীনা, মোযদালফিা এবং আরাফাতরে মাঝে যাতায়াতরে সময়ও হাজী গণরে মুখে হজ্বরে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ্‌ র তাওহীদ বা একত্ববাদের স্বীকৃতি প্রদান করা হচ্ছে
আল্লাহর বাণীঃঅতঃপর যখন তওয়াফের জন্য ফিরে আসবে আরাফাত থেকে,তখন মাশআরে হারামের নিকটে আল্লাহ্‌ কে স্মরণ কর। (সূরা বাক্বারা-১৯৮)
জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাসওয়া নামক উটে আরোহণ করে মুযদালিফায় আসেন।অতঃপর কেবলা মুখী হয়ে দুয়া করেন এবং তাকবীর বলেন, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করেন এবং মহান আল্লাহ্‌ র একত্ববাদের বর্ণনা করেন।(মুসলিম-২/৮৯১)।
কোরবানী করার সময় বিসমিল্লাহ আল্লাহুকবার বলে কোরবানী করার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ র একত্ববাদের স্বীকৃতি প্রদান করছে
আল্লাহর বাণী: অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কোরবানী করুন। (সূরা কাওসার-২)
এমনিভাবে হজ্বরে প্রতিটি কর্মকাণ্ডে একজন হাজী আল্লাহ্‌ র একত্ববাদের ঘোষণা দিচ্ছে যা প্রমাণ করে যে ইবাদতরে মূলই হল আল্লাহ্‌ র একত্ববাদ।আর এই নির্দেশনাই আল্লাহ্‌ সমস্ত নবী গণরে নিকট প্ররেণ করছেনে।

 

2 Responses

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: