আসুন জেনে নেই কি করছে ইসলাপন্থীগণ আফ্রিকার মালীতে

আফ্রিকার একটি রাষ্ট্রে চলছে লড়াই। রাষ্ট্রের নাম মালী। ইসলামপন্থীরাও মাঠে রয়েছে। শুনা যাচ্ছে তারা একটি অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যদিও আমি সেখানকার বিস্তারিত খবর জানি না, কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হতে পেরেছি যে, সেখানকার ইসলাম প্রিয় বিপ্লবী যুবকদের দ্বারা অলী-আওলীয়াদের কবরের উপর নির্মিত সৌধ ও গম্বুজগুলো ভাঙ্গা শুরু করেছে। তাদের মধ্যে অন্যান্য ভুল-ভ্রান্তি থাকলেও এটি তাদের পরিচ্ছন্ন আকীদাহর প্রমাণ করে। কারণ কবরের উপর গম্বুজ, মসজিদ ও সৌধ নির্মান সম্পূর্ণ হারাম ও গর্হিত কাজ। এগুলো পর্যায়ক্রমে মুসলিমদের শির্কে আকবারের দিকে নিয়ে যায়।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল, শুধু মালীতেই নয়; সুফীও সুফিবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আজ অধিকাংশ মুসলিম দেশে অলী-আওলীয়া ও তরীকার মাশায়েখদের কবর পাকা করা, কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ, তাতে বাতি জ্বালানো, কবর ও মাযার যিয়ারত করার প্রবণতা ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন কি সুফীরা বেশ কিছু মাজারের চার পাশে তাওয়াফও করে থাকে। মিশরে সায়্যেদ বদভীর কবরের চতুর্দিকে সুফীরা কাবা ঘরের তাওয়াফের ন্যায় তাওয়াফ করে থাকে। অথচ সকল মুসলিমের কাছে অতি সুস্পষ্ট যে তাওয়াফ এমন একটি এবাদত, যা কাবা ঘরের চতুর পার্শ্বে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যই করতে হবে। সুতরাং কোন কবরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করা বড় শির্ক, যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ
এবং তারা যেন এই সুসংরক্ষিত (পবিত্র) গৃহের তওয়াফ করে। (সূরা হাজ্জঃ ২৯) নবী (সাঃ) কবর নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে উম্মাতকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেনঃ
اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنًا يُعْبَدُ اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمٍ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
হে আল্লাহ্! আমার কবরকে পূজার স্থানে পরিণত করো না, যাতে এর ইবাদত করা হয়। আল্লাহ্ অভিশাপ করেছেন ঐ জাতিকে যারা তাদের নবীদের কবর সমূহকে কেন্দ্র করে মসজিদ তৈরী করেছে।” (মুসনাদে আহমাদ) আবু হুরায়রা (রাঃ) এর সূত্রে বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
ইহুদী খৃষ্টানদের প্রতি আল্লাহ্র লানত। কারণ তারা তাদের নবীদের
কবরগুলোকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে।”
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবুল হায়্যায আল আসাদীকে বলেন, দুআআমি কি তোমাকে এমন আদেশ দিয়ে প্রেরণ করব না, যা দিয়ে নবী (সাঃ) আমাকে প্রেরণ করেছিলেন?
أَنْ لَا تَدَعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ
কোন মূর্তী পেলেই তা ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলবে। আর কোন কবর উঁচু পেলেই তা ভেঙ্গে মাটি বরাবর করে দিবে।” (মুসলিম)
এমনিভাবে নবী (সাঃ) নিষেধ করেছেন, কবর পাকা করতে, চুনকাম করতে, তার উপর বসতে, কবরে লিখতে। আর তিনি অভিশাপ করেছেন ঐ সমস্ত ব্যক্তিদেরকে যারা কবরকে মসজিদ বানায় এবং সেখানে বাতি জালায়। (মুসলিম) সাহাবা, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈন (রাঃ)এর যুগে ইসলামী শহর সমূহে কোন কবর পাকা করা বা কবরের উপর গম্বুজ নির্মাণ করা হয় নি। না নবী (সাঃ) এর কবরে, না অন্য কারও কবরে।
আমাদের জন্মভুমি বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল মাজার ও দর্গায় পরিপূর্ণ। চলছে সরকারী ও বেসরকারীভাবে শিক-বিদআতের মেলা।

মালীর জমিন থেকে শির্ক-বিদআত ও ইসলাম বিরোধী শক্তির উৎখাতের প্রচেষ্টা নিসন্দেহে একটি খুশীর খবর। তারা যদি অলী-আওরীয়াদের কবরের উপর নির্মিত গম্বুজ, সৌধ ও মসজিদগুলো ভেঙ্গে টিকে থাকতে পারে, তাহলে তাই করা উচিত। আমাদের বাংলাদেশ থেকেও শির্ক-বিদআত ও ইসলাম বিরোধী শক্তির বিদায় হয়ে তদস্থলে যেন ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় সে কামনাই করি। আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাওফীক দেন। আমীন।

খবরের সত্যতা এখানে দেখুনঃ
http://arabic.rt.com/news_all_news/news/588776/

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: